আপনার উল্লেখ করা বিষয়টি—খাদ্যের দোষ না ধরা এবং খাদ্যের প্রশংসা করা—ইসলামী শিষ্টাচার (আদব) এবং সাধারণ মানবিক মূল্যবোধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মানুষের বিনয় ও কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় দেয়।
নিচে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো:
১. ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি (সুন্নাহ)
ইসলাম ধর্মে খাবারের দোষ ধরাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং প্রশংসা করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
দোষ না ধরা: হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো কোনো খাবারের দোষ ধরতেন না। যদি তাঁর পছন্দ হতো তবে খেতেন, আর অপছন্দ হলে রেখে দিতেন (চুপ থাকতেন)।" (সহীহ বুখারী: ৫৪০৯, সহীহ মুসলিম: ২০৬৪)
অর্থাৎ, লবণ কম হওয়া, ঝাল বেশি হওয়া বা স্বাদ না হওয়া নিয়ে তিনি কখনো মন্তব্য করতেন না।
প্রশংসা করা: খাবার সাধারণ হলেও তার প্রশংসা করা সুন্নাত। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি (সা.) পরিবারের কাছে তরকারি চাইলেন। তাঁরা জানালেন যে সিরকা (vinegar) ছাড়া আর কিছু নেই। তিনি তাই আনালেন এবং তা দিয়ে খেতে খেতে বললেন:
"সিরকা কতই না উত্তম তরকারি! সিরকা কতই না উত্তম তরকারি!" (সহীহ মুসলিম: ২০৫২)
২. সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব
খাবারের দোষ না ধরা এবং প্রশংসা করার বিশাল সামাজিক প্রভাব রয়েছে:
রাঁধুনির প্রতি কৃতজ্ঞতা: মা, স্ত্রী বা যিনি কষ্ট করে রান্না করেছেন, তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করা উচিত। খাবারের দোষ ধরলে তাদের মনে কষ্ট দেওয়া হয় এবং উৎসাহ কমে যায়। প্রশংসা করলে তাদের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং তারা খুশি হন।
পারিবারিক শান্তি: খাবারের টেবিলে দোষ-ত্রুটি নিয়ে কথা কাটাকাটি করলে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হয়। পক্ষান্তরে প্রশংসা করলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
রিজিকে বরকত: খাবারের প্রশংসা করা মানে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহ বলেছেন, "যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেব।" (সূরা ইব্রাহিম: ৭)
৩. খাবার অপছন্দ হলে করণীয় কী?
খাবার সবসময় সুস্বাদু নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে করণীয় হলো:
চুপ থাকা এবং যতটুকু সম্ভব খাওয়া।
জোর করে না খাওয়া বা অভদ্রভাবে প্রত্যাখ্যান না করা।
যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তবে খাওয়ার সময় সবার সামনে না বলে পরে একান্তভাবে সুন্দর ভাষায় পরামর্শ দেওয়া।
সারকথা:
খাদ্য আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। তাই এর ছিদ্রান্বেষণ বা খুঁত না খুঁজে ভক্তি ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করাই উত্তম চরিত্রের লক্ষণ।

0 Comments