সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা ও কোমলতা—মানুষের চরিত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি গুণ। এই তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে যেমন সুখী হন, তেমনি সামাজিকভাবেও সম্মানিত হন। নিচে এই গুণগুলোর তাৎপর্য আলোচনা করা হলো:
১. সহনশীলতা (Tolerance/Patience):
সহনশীলতা মানে হলো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়া এবং অন্যের কটু কথা বা খারাপ আচরণে উত্তেজিত না হওয়া। এটি মানুষের মনের বিশালতা প্রকাশ করে।
গুরুত্ব: সহনশীল মানুষ ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলতে পারেন। এতে সমাজে শান্তি বজায় থাকে।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে: ইসলাম ধর্মে সবর বা ধৈর্যের মর্যাদা অনেক বেশি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"
২. ধীর-স্থিরতা (Calmness/Steadiness):
যেকোনো কাজে তাড়াহুড়ো না করা এবং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে ধীর-স্থিরতা বলে। প্রবাদ আছে, "রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন" কিংবা "সবুরে মেওয়া ফলে"।
গুরুত্ব: তাড়াহুড়ো শয়তানের কাজ হিসেবে পরিচিত। ধীর-স্থিরভাবে কাজ করলে ভুলের সম্ভাবনা কমে যায় এবং কাজের মান ভালো হয়।
নেতৃত্বে: একজন ভালো নেতার অন্যতম গুণ হলো ধীর-স্থিরতা। কঠিন সময়ে মাথা ঠান্ডা রাখা সফলতার চাবিকাঠি।
৩. কোমলতা (Gentleness/Softness):
কোমলতা হলো আচরণের নম্রতা। কর্কশ ভাষায় কথা না বলা এবং মানুষের সাথে দয়াশীল আচরণ করাই হলো কোমলতা।
গুরুত্ব: কোমল আচরণের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করা যায়। কঠোরতা দিয়ে যা আদায় করা যায় না, নম্রতা দিয়ে তা সহজেই পাওয়া যায়।
হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতাকে পছন্দ করেন।" (সহীহ মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন, "যার মধ্যে কোমলতা নেই, সে সব রকমের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।"
#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৪ সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা ও কোমলতা।
উপসংহার:
এই তিনটি গুণ একে অপরের পরিপূরক। যার মধ্যে ধীর-স্থিরতা আছে, তিনি সহজেই সহনশীল হতে পারেন। আর যিনি সহনশীল, তার আচরণে প্রাকৃতিকভাবেই কোমলতা প্রকাশ পায়। সুন্দর সমাজ ও শান্তিময় জীবন গড়তে আমাদের সবার উচিত এই গুণগুলো চর্চা করা।

0 Comments