Ticker

10/recent/ticker-posts/

সচ্চরিত্র: মুমিনের শ্রেষ্ঠ অলংকার (কোরআন ও হাদিসের আলোকে)

#Islamic_Academy_NP

ইসলাম কেবল নামাজ, রোজা বা হজের নাম নয়; বরং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ ও সচ্চরিত্র গঠনের নামই হলো ইসলাম। একজন মুমিনের বাহ্যিক ইবাদত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চরিত্র বা আখলাক সুন্দর হওয়া তেমনই জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর পুরো জীবনই ছিল সচ্চরিত্রের এক বাস্তব নমুনা। আজ আমরা জানব, সচ্চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিস কী শিক্ষা দেয়।


১. সচ্চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের বাণী

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উত্তম চরিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং মুমিনদের তা অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ক) রাসুল (সাঃ)-এর চরিত্রের সাক্ষ্য:

স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিবের চরিত্রের প্রশংসা করে বলেন:

“নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।”

(সূরা আল-কালাম, আয়াত: ৪)

খ) মানুষের সাথে কথা বলার শিষ্টাচার:

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের সাথে নম্র ও সুন্দরভাবে কথা বলার জন্য:

“তোমরা মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো।”

(সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৮৩)

গ) মন্দের জবাব ভালো দিয়ে দেওয়া:

সচ্চরিত্রের অন্যতম গুণ হলো কেউ খারাপ আচরণ করলে তার জবাবে ভালো আচরণ করা। আল্লাহ বলেন:

“ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না। তুমি মন্দকে ভালো দ্বারা প্রতিহত করো; ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা আছে, সেও অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো হয়ে যাবে।”

(সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৪)


২. সচ্চরিত্র সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা

হাদিস শরিফে সচ্চরিত্রকে ঈমানের পূর্ণতা এবং জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক) ঈমানের পূর্ণতা:

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

“মুমিনদের মধ্যে সেই ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।”

(সুনানে তিরমিজি: ১১৬২)

খ) মিজানের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী আমল:

কিয়ামতের দিন অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও সচ্চরিত্রের ওজন বেশি হবে। নবীজি (সাঃ) বলেন:

“কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় সচ্চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো আমল হবে না।”

(সুনানে তিরমিজি: ২০০৩)

গ) রাসুল (সাঃ)-এর আগমনের উদ্দেশ্য:

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর নবুওয়াতের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

“আমি প্রেরিত হয়েছি শুধুমাত্র উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্য।”

(মুসনাদে আহমাদ: ৮৯৫২)

ঘ) জান্নাতের নিশ্চয়তা:

একবার রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেন:

“আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং সচ্চরিত্র।”

(সুনানে তিরমিজি: ২০০৪)


সচ্চরিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক

সচ্চরিত্র বা ‘হুসনুল খুলুক’ অর্জনের জন্য আমাদের কিছু গুণাবলী অভ্যাসে পরিণত করতে হবে:

১. সত্যবাদিতা: সবসময় সত্য কথা বলা এবং মিথ্যা পরিহার করা।

২. বিনয়: অহংকার ত্যাগ করে সবার সাথে নম্র আচরণ করা।

৩. রাগ নিয়ন্ত্রণ: রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করা এবং ক্ষমা করা।

৪. আমানতদারিতা: অন্যের গচ্ছিত সম্পদ বা কথার খেয়ানত না করা।

৫. লজ্জাশীলতা: অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।


উপসংহার

সচ্চরিত্র বা উত্তম আখলাক ছাড়া একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করতে হলে আমাদের প্রত্যেকের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের চরিত্র সুন্দর করা।

আসুন, আমরা আল্লাহর কাছে সেই দোয়াটি বেশি বেশি করি যা রাসুল (সাঃ) করতেন:

#রিয়াদুস_সালেহীন দ্বিতীয় খণ্ড অনুচ্ছেদঃ৭৩ সচ্চরিত্র সম্পর্কে।

“হে আল্লাহ! আপনি আমার সৃষ্টিকে যেমন সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন।” (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সচ্চরিত্রবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন। 

#ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন #মুহাম্মদের_বাণী

Post a Comment

0 Comments