ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। অযু করার ক্ষেত্রে শরীয়ত আমাদের জন্য সহজ পথ রেখেছে। পা ধোয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট শর্তে পট্টি, ব্যান্ডেজ বা মোজার উপর মাসেহ করা ইসলামে বৈধ—যা কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে প্রমাণিত।
ইসলাম, সকল ধর্মের মধ্যে শুদ্ধিকরণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে। "শুদ্ধ ব্যক্তি আল্লাহর প্রেমের প্রতীক" এই কথাটি আল-কুরআন ও হাদীসের আলোচনায় প্রবল। সাধারণ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—তারিকায়, খাদ্য সংস্পর্শে, নামাজের আগে—শুদ্ধিকরণ অপরিহার্য। তবে সময়ে সময়ে, পানির অভাবের সম্মুখীন হলে কী করা উচিত? এখানেই "পট্টির উপর মাসেহ করা" (হাত ধোয়া বা শুদ্ধ করা পট্টি বা মাটি দিয়ে) এর গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়।
১. ইসলামে শুদ্ধিকরণের গুরুত্ব: আলোচনা কুরআন ও হাদীস থেকে
আল-কুরআন বলে, "ওহে মুসলমানরা! আল্লাহ আপনাদেরকে শুদ্ধ ও স্বচ্ছ রাখতে উপদেশ দিচ্ছেন।" (আল-ইমরান, ৩:৪১)। এছাড়া, পবিত্র রসূল মুহাম্মদ (সঃ) বলেন, "শুদ্ধিকরণ হলো মানুষের বিশ্বাসের অর্ধেক।" (সহীহ মুসলিম)। এই উপদেশগুলো শুদ্ধিকরণকে ধর্ম ও স্বাস্থ্য উভয়ই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। হাত ধোয়া হলো এই শুদ্ধিকরণের একটি মৌলিক অংশ—কারণ হাত দ্বারা আমরা বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করি, যা ব্যাকটেরিয়া বা জারাজ্যাম লইয়ে আসতে পারে। তবে পানির অভাবে হাত ধোয়ার উপায় কী? ইসলামে এই সমস্যার সমাধান "তেরম" (পবিত্র মাটি বা পট্টি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
২. পট্টির উপর মাসেহ করার ধর্মীয় ভিত্তি: "তেরম" এর স্থান
তেরম বলতে বোঝায় পানি না থাকা সময় শুদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়ে থাকা সাফ, নিরপেক্ষ মাটি বা পট্টি। পবিত্র হাদীসে এর উল্লেখ আছে: রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, "যখন আপনার কাছে পানি নেই, তখন তেরম ব্যবহার করে উসুল করুন। তেরম দিয়ে হাত, চোখ, নাক, মুখ ও শরীরের অপরাপর অংশ মাসেহ করুন।" (সহীহ বুখারী ও সুনান ইবনে মাজহা )। এই নির্দেশ অনুযায়ী, পানির অভাবে পট্টি ব্যবহার করে হাত শুদ্ধ করা ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত।
৩. পট্টি ব্যবহারের সুবিধা ও প্রয়োজন
পট্টি বা মাটি হলো প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ উপকরণ, যা প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার করা হয়। আধুনিক সময়েও এটির প্রয়োজনীয়তা থাকে:
👉 পানি অভাব: দুর্ব্যবহার, পর্যটনে, বন্যা বা শুকনো অঞ্চলে পানি সীমিত থাকলে তেরম একমাত্র উপায়।
👉 প্রাকৃতিক শুদ্ধি: নিরপেক্ষ মাটির কিছু ধরণ (যেমন, কালো মাটি বা পট্টি) ক্লিনার উপকরণের মতো কাজ করে, জারাজ্যাম ধোয়ার কাজ সম্পন্ন করে।
👉 ধর্মীয় অনুসরণ: হাদীসের সূত্র মেনে নেওয়া হলে পট্টি মাসেহ করা একটি বিশ্বাসবিশিষ্ট ক্রিয়া।
৪. সঠিক পদ্ধতি: পট্টি দিয়ে হাত ধোয়ার চিন্তার বিষয়
পট্টি ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বিধি মেনে নেওয়া উচিত:
প্রথম ধাপ: শুদ্ধ তেরম সংগ্রহ
👉 মাটি বা পট্টি সাফ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনো অশুদ্ধ জিনিস (যেমন, গর্বটা, বিষাক্ত পদার্থ) মিশেনো মাটি ব্যবহার করবেন না।
👉মাটিটি ও মাখানো যায় এমন হতে হবে। কঠিন বা কুঁচকে মাটি হাতে আঘাত করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: মাসেহ করা
👉 হাতে মাটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ লাগান।
👉হাতের প্রতিটি অংশ (যোড়া, আঙুলের কোণ, বাহু) সতর্কতার সাথে মাটি দিয়ে মাসেহ করুন।
👉মাটি দিয়ে ধোয়ার পর, সম্ভব হলে পানি দিয়ে আবার ধোয়া। কারণ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, "তেরম ব্যবহার করে যদি পানি পাও, তবে পানি দিয়ে আবার মাসেহ কর।" (সুনান আবু দাউদ)।
👉হাতের প্রতিটি অংশ (যোড়া, আঙুলের কোণ, বাহু) সতর্কতার সাথে মাটি দিয়ে মাসেহ করুন।
👉মাটি দিয়ে ধোয়ার পর, সম্ভব হলে পানি দিয়ে আবার ধোয়া। কারণ রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, "তেরম ব্যবহার করে যদি পানি পাও, তবে পানি দিয়ে আবার মাসেহ কর।" (সুনান আবু দাউদ)।
৫. আধুনিক সময়ে পট্টি মাসেহের প্রয়োজনীয়তা
আজকের যুগেও পট্টি মাসেহের গুরুত্ব কমেনি। যেমন:
👉পর্যটন বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি: বিদেশে পর্যটনে, বাসা ছাড়িয়ে বা বিপজ্জনক ঘটনা (যেমন, ভূমিকম্প, বন্যা) সময়ে পানি না থাকলে এটি উপকারী।
👉শিক্ষার দিক: ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে এই প্রথা শিখানো দ্বারা ছাত্রছাত্রীরা ধর্মীয় নিয়মগুলো বুঝতে পারে।
👉স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের আদর্শ বজায় রাখা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
👉পর্যটন বা বিপজ্জনক পরিস্থিতি: বিদেশে পর্যটনে, বাসা ছাড়িয়ে বা বিপজ্জনক ঘটনা (যেমন, ভূমিকম্প, বন্যা) সময়ে পানি না থাকলে এটি উপকারী।
👉শিক্ষার দিক: ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে এই প্রথা শিখানো দ্বারা ছাত্রছাত্রীরা ধর্মীয় নিয়মগুলো বুঝতে পারে।
👉স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের আদর্শ বজায় রাখা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
উপসংহার
পট্টির উপর মাসেহ করা ইসলামে পানির অভাবে একটি মৌলিক উপায়, কিন্তু এটি শুধুমাত্র পানির প্রতিস্থাপক। পানি উপলব্ধ হলে সামান্য সময়ের মধ্যেও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার উপদেশ পালন করতে হবে। ইসলামিক একাডেমি এনপি আশা করে, এই ব্লগ আপনাকে এই প্রথার গভীরতা বোঝায় এবং ধর্মীয় নিয়ম মেনে নেওয়ার উৎসাহ দেয়। শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর প্রেম ও আমাদের নামাজের শ্রদ্ধা বাড়াই যাই।
%20%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%20%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%A3.jpeg)

0 Comments