Ticker

10/recent/ticker-posts/

মুসলিমদের সাথে বিনয় ও নম্রতাপূর্ণ ব্যবহার: ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলাম কেবল মাত্র ইবাদত-বন্দেগির নাম নয়, বরং এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আর এই জীবনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ‘হুসনে খুলক’ বা উত্তম চরিত্র। একজন মুসলিমের চরিত্রের প্রধান ভূষণ হলো বিনয় ও নম্রতা। আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের পরস্পর ভাই হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তাই, একে অপরের সাথে আচরণে কঠোরতা পরিহার করে বিনয়ী হওয়া ঈমানের দাবি। আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব, কেন এবং কীভাবে একজন মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের আচরণ নম্র ও বিনয়পূর্ণ হওয়া উচিত।


কুরআনের আলোকে বিনয় ও নম্রতা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের সিফাত বা গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে নম্রতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন:
"রহমানের বান্দা তো তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা বলে, সালাম।" (সূরা আল-ফুরকান: ৬৩)

অন্যত্র আল্লাহ তাঁর হাবীব (সাঃ)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন:
"আর মুমিনদের মধ্য থেকে যারা আপনার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি আপনি আপনার ডানা (বাহু) অবনত করুন (অর্থাৎ বিনয়ী হোন)।" (সূরা আশ-শুআরা: ২১৫)

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক হবে ভালোবাসাপূর্ণ এবং আচরণ হবে অত্যন্ত কোমল। কঠোরতা বা অহংকার মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

হাদীসের দর্পণে মুসলিমদের প্রতি নম্রতা
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ছিলেন বিনয় ও নম্রতার মূর্ত প্রতীক। তিনি সাহাবীদের সাথে সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও কোমল আচরণ করতেন। নবীজি (সাঃ) বলেছেন:


১. পরস্পর দয়া প্রদর্শন:
"মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি শরীরের মতো। যখন শরীরের কোনো একটি অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর জ্বর ও অনিদ্রায় আক্রান্ত হয়।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

২. বিনয় জান্নাতের পথ:
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।" (সহীহ মুসলিম)

৩. মুসলিম ভাইয়ের অধিকার:
"কোনো মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইকে ভয় দেখাবে।" (সুনানে আবু দাউদ)

কেন মুসলিমদের সাথে নম্র ব্যবহার করবেন?

১. আল্লাহর ভালোবাসা লাভ: যারা মানুষের সাথে নরম ব্যবহার করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। কঠোর হৃদয়ের মানুষকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।

২. সামাজিক সম্প্রীতি: বিনয়ী আচরণ সমাজের ঝগড়া-বিবাদ কমিয়ে আনে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন মজবুত করে।

৩. অহংকার থেকে মুক্তি: বিনয়ী আচরণ মানুষকে অহংকার (তাকাব্বুর) থেকে দূরে রাখে, যা জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

৪. রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহ: আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) কখনো কাউকে কটু কথা বলতেন না। তাঁর অনুসরণেই রয়েছে আমাদের কামিয়াবি।


বাস্তব জীবনে নম্রতা চর্চার উপায়
একজন মুসলিম হিসেবে দৈনন্দিন জীবনে আমরা কীভাবে এই গুণটি চর্চা করতে পারি?


সালাম বিনিময়: পরিচিত-অপরিচিত সকল মুসলিম ভাইকে হাসিমুখে সালাম দিন। সালাম অহংকার দূর করে।
তর্ক পরিহার করা: নিজের মত সঠিক হওয়া সত্ত্বেও ভাইয়ের সাথে ঝগড়া এড়াতে চুপ থাকা বিনয়ের লক্ষণ।
ক্ষমা করা: কেউ ভুল করলে বা কষ্ট দিলে তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিন এবং সুন্দর ভাষায় নসিহত করুন।
বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ: বয়সে বড় মুসলিমদের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের স্নেহ করা ঈমানী দায়িত্ব।
কটু কথা না বলা: রাগের মাথায় বা ঠাট্টা করেও কোনো মুসলিম ভাইকে অপমানজনক কথা বলা যাবে না।

ইসলামে মুসলিমদের সাথে বিনয় ও নম্রতাপূর্ণ ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। জানুন কুরআন ও হাদীসের আলোকে মুমিনের পারস্পরিক আচরণের ফজিলত ও বাস্তব আমল সম্পর্কে। ইসলামে পরিবারের গুরুত্ব: একটি পবিত্র বন্ধন।

ইসলামে বিনয় (Humility in Islam)
মুসলিমদের সাথে আচরণ (Behavior with Muslims)
নম্রতা ও ভদ্রতা (Politeness and Gentleness)
বিনয়ী হওয়ার ফজিলত (Virtues of being humble)
মুসলিমদের সাথে বিনয়ী আচরণ: গুরুত্ব ও ফজিলত | Islamic Academy NP


উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বিনয় ও নম্রতা মুমিনের অলংকার। একজন মুসলিমের সাথে অপর মুসলিমের আচরণ হতে হবে শিশিরের মতো কোমল। আসুন, আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোরতা পরিহার করি এবং বিনয়ের চাদরে একে অপরকে জড়িয়ে রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একে অপরের সাথে উত্তম আচরণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

Post a Comment

0 Comments