Ticker

10/recent/ticker-posts/

পাত্রের পানিতে বা খাবারে অনিচ্ছাকৃত মুখের লালা পড়লে তা কি নাপাক হয়ে যায়?

পাত্রের পানিতে বা খাবারে অনিচ্ছাকৃত মুখের লালা পড়লে তা কি নাপাক হয়ে যায়?
মাসআলা ও সমাধান: 🌿
দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় অসতর্কতাবশত পানির পাত্রে বা খাবারে আমাদের মুখের ছিটা বা লালা পড়ে যায়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এই পানি বা খাবার কি নাপাক হয়ে গেল? ফেলে দিতে হবে? আসুন, সহীহ হাদিসের আলোকে এর সমাধান জেনে নিই।

শরীয়তের বিধান: 📖
ইসলামী শরীয়ত মতে, মানুষের মুখের লালা বা থুতু মূলত পবিত্র (নাপাক নয়)। যদি কোনো ব্যক্তির মুখ পবিত্র থাকে (অর্থাৎ মুখে কোনো নাপাক বস্তু যেমন রক্ত বা মদ না থাকে), তবে তার মুখের লালা বা পানির ছিটা পাত্রে পড়লে সেই পানি বা খাবার নাপাক হয় না। তা পান করা বা ব্যবহার করা জায়েজ।

হাদিসের দলিল: ✨
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আমি ঋতুমতী অবস্থায় হাড় চিবুতাম, তারপর তা নবী কারীম (সা.)-এর নিকট দিতাম। আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে হাড় চিবুতাম, তিনি ঠিক সেখানে মুখ লাগিয়ে তা চিবুতেন। আবার আমি পাত্রে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতাম, এরপর তা নবীজী (সা.)-কে দিতাম। আমি পাত্রের যেখানে মুখ লাগাতাম, তিনিও ঠিক সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন।"
📚 (সহীহ মুসলিম: ৩০০, সুনানে নাসায়ী: ২৮২)

এছাড়াও অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"মুমিন কখনো নাপাক হয় না।"
📚 (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) (সুনান ইবনে মাজাহ ১৩৬)
ব্যাখ্যা:
উক্ত হাদিসগুলো দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষের মুখের লালা বা ঝুটা নাপাক নয়। তাই অনিচ্ছাকৃতভাবে পাত্রের পানিতে লালা পড়লে তা ফেলে দেওয়া জরুরি নয়, বরং তা ব্যবহার করা যাবে। তবে, যদি কারো মুখে নাপাক কোনো বস্তু থাকে অথবা স্বাস্থ্যগত কারণে (যেমন সংক্রামক রোগ) ডাক্তার নিষেধ করেন, তবে সেক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

সিদ্ধান্ত: ✅
সাধারণ অবস্থায় মুখের লালা পড়লে পানি নাপাক হয় না। তবে ঘৃণাবোধ বা রুচির কারণে কেউ যদি তা পান করতে না চান, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু ধর্মীয় দৃষ্টিতে তা হারাম বা নাপাক নয়।
আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

পাত্রের পানিতে লালা পড়লে বিধান, মুখের লালা কি নাপাক, পানির মাসআলা, ইসলামে পবিত্রতা, হাদিসের আলোকে সমাধান, Islamic Academy NP Block.

Post a Comment

0 Comments