Ticker

10/recent/ticker-posts/

হায়েযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম: ইসলামী বিধান, গুনাহ ও কাফফারা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

হায়েয বা মাসিক ঋতুস্রাব চলাকালীন স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করা কি জায়েজ? এর শরীয়তের বিধান কী? এই কাজের জন্য কী কাফফারা আদায় করতে হয়? কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিস্তারিত জানুন ইসলাম একাডেমিতে।

মানবজীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা ও স্নেহের বন্ধন। তবে ইসলাম এই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শরয়ী বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যা মুমিন দম্পতির ইহকালীন ও পরকালীন মঙ্গলের জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো—স্ত্রীর হায়েয (মাসিক ঋতুস্রাব) চলাকালীন সময়ে তার সাথে যৌন মিলন বা সঙ্গম। অনেক সময় অজ্ঞতা বা আবেগের বশবর্তী হয়ে দম্পতিরা এই সীমা লঙ্ঘন করেন। এই পোস্টে আমরা কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে এই বিষয়ের শরয়ী বিধান, এর গুরুত্ব এবং ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করলে কী করণীয় তা আলোচনা করব।

কুরআনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সূরা আল-বাকারায় স্পষ্টভাবে হায়েয চলাকালীন সঙ্গম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

"আর তারা তোমাকে হায়েয সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বলো, 'এটা তো কষ্টদায়ক ব্যাপার। অতএব, হায়েয অবস্থায় নারীদের থেকে দূরে থাকা এবং তাদের কাছে না যাওয়াই উত্তম...'" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২২)

এখানে 'দূরে থাকা' বলতে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকাকে বুঝানো হয়েছে। তবে কথাবার্তা বলা, একসাথে খাওয়া-দাওয়া করা বা অন্য কোনো প্রকার শারীরিক ঘনিষ্ঠতা (যা যৌন মিলনে পৌঁছায় না) জায়েজ আছে, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়।

হাদিসের আলোকে বিধান ও সতর্কবাণী

রাসূলুল্লাহ (সা.) হায়েয চলাকালীন সঙ্গমকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বিভিন্ন হাদিসে এই কাজের জন্য তীব্র সতর্কবাণী ও কাফফারা আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

একটি বিখ্যাত হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি তার হায়েযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে, সে যদি এক দিনার সদকা করে, তবে তা তার পাপের চেয়ে কম হবে; আর যদি অর্ধেক দিনার সদকা করে, তবে তাও তার পাপের চেয়ে কম হবে।" (সুনান আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)

অন্য বর্ণনায় কাফফারা হিসেবে এক দিনার বা অর্ধেক দিনার (স্বর্ণের ওজন অনুযায়ী) সদকা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক ফকীহগণ মত দিয়েছেন যে, এটি কেবল সদকা নয়, বরং এটি একটি প্রায়শ্চিত্ত বা কাফফারা হিসেবে গণ্য হবে এবং আল্লাহর কাছে তাওবা ইস্তেগফার করা ফরজ।


করণীয় কী? (কাফফারা ও তাওবা)

যদি কোনো দম্পতি ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত হায়েয চলাকালীন সঙ্গম করে ফেলেন, তবে তাদের করণীয় হলো:

১. তৎক্ষণাৎ তাওবা করা: আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করা।

২. কাফফারা আদায়: সামর্থ্য অনুযায়ী এক দিনার বা অর্ধেক দিনার পরিমাণ স্বর্ণের মূল্য সদকা করা। (বর্তমান স্বর্ণের দাম অনুযায়ী এর পরিমাণ নির্ধারণ করে নেওয়া উত্তম, তবে স্থানীয় আলেমের পরামর্শ নেওয়া জরুরি)।

৩. গোসল: উভয়কে পবিত্রতার জন্য গোসল করতে হবে।

সচেতনতা ও শিক্ষা

ইসলাম ধর্ম একটি সহজ ও যৌক্তিক ধর্ম। হায়েয চলাকালীন সঙ্গম নিষিদ্ধ হওয়ার পেছনে চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত কারণও রয়েছে, যা নারীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই মুমিন দম্পতির উচিত শরীয়তের এই বিধানগুলো মেনে চলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

উপসংহার

স্ত্রীর হায়েয চলাকালীন সঙ্গম থেকে বিরত থাকা কেবল একটি আইনগত বিষয় নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ। আসুন, আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী বিধানগুলো মেনে চলি এবং নিজেদের ও পরিবারকে হেফাজত করি।

(দ্রষ্টব্য: জটিল কোনো মাসআলার ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির সাথে পরামর্শ করা উত্তম।)

#Islam #IslamicRules #Hayz #MuslimCouple #HalalAndHaram #IslamicGuidance #BanglaWaz #Islamic_Academy_NP

Post a Comment

0 Comments