Ticker

10/recent/ticker-posts/

নিফাসগ্রস্ত নারীরা কত দিন অপেক্ষা করবে? কোরআন ও হাদিসের আলোকে নিফাসের বিধান জানুন

 প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব বা নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ কত? ৪০ দিন নাকি তার বেশি? হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নিফাসকালীন নামাজ, রোজা ও গোসলের বিধান জানুন কোরআন ও সহিহ হাদিসের দলিলসহ।


প্রসবের পর নারীদের যে রক্তস্রাব হয়, ইসলামী শরীয়তে তাকে ‘নিফাস’ বলা হয়। এই সময়ে নারীদের ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই বিভ্রান্ত থাকেন—নিফাসের মেয়াদ ঠিক কতদিন? ৪০ দিনের পরে রক্তস্রাব হলে কি নামাজ শুরু করতে হবে? আজকের এই পোস্টে আমরা কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এই মাসআলাগুলো পরিষ্কার করব।

নিফাস কী?

‘নিফাস’ শব্দের অর্থ হলো প্রসব। শরীয়তের পরিভাষায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পর যে রক্ত বের হয়, তাকে নিফাস বলে।

কোরআন ও হাদিসের দলিল:

কোরআন মজিদে সরাসরি নিফাসের দিন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, তবে হায়দ (মাসিক) ও নিফাসকে একই ধরনের শারীরিক অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"আর তারা তোমাকে হায়দ (মাসিক) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, এটি একটি কষ্টদায়ক জিনিস। সুতরাং হায়দ অবস্থায় নারীদের থেকে দূরে থাকো..." (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২২)

হাদিসে নিফাসের মেয়াদ সম্পর্কে সাহাবীদের আমল থেকে জানা যায়। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত:

"নিফাসকালীন নারী ৪০ দিন বা ৪০ রাত অপেক্ষা করত।" (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং: ১১; সুনান তিরমিজি, হাদিস নং: ১৩৯  সুনান ইবনেমাজহা, হাদিস নং: ৩০০)

এই হাদিসটি নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন হওয়ার অন্যতম প্রধান দলিল।

নিফাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মেয়াদ:

১. সর্বনিম্ন মেয়াদ: নিফাসের কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন মেয়াদ নেই। প্রসবের সাথে সাথে রক্ত বের হয়ে যদি তা থেমে যায়, তবেও তা নিফাস।

২. সর্বোচ্চ মেয়াদ:

হানাফি মাযহাব: অধিকাংশ হানাফি ফুকাহার মতে, নিফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন। (দলিল: উম্মে সালামা (রা.)-এর হাদিস)।

অন্যান্য মাযহাব: শাফি ও হাম্বলি মাযহাবে কিছু বর্ণনা অনুযায়ী এটি ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে, তবে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে হানাফি মতই প্রচলিত।


৪০ দিনের পরে রক্তস্রাব অব্যাহত থাকলে করণীয়:

যদি ৪০ দিনের পরেও রক্তস্রাব চলতে থাকে, তবে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী:

৪তম দিনের পর থেকে সেই রক্তকে ‘ইস্তিহাযা’ (অসুস্থতাজনিত রক্তস্রাব) ধরা হবে।

এই অবস্থায় নারীকে গোসল করে নামাজ ও রোজা শুরু করতে হবে।

নামাজের ওয়াক্তের মধ্যে পবিত্র হয়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

রমজানের রোজা রাখতে হবে এবং পরে কাজা আদায়ের প্রয়োজন নেই (কারণ এটি এখন ইস্তিহাযা, নিফাস নয়)।

নিফাসকালীন ইবাদতের বিধান:

নামাজ ও রোজা: নিফাসকালীন সময়ে নামাজ ও রোজা ফরজ নয়। বরং এই সময়ে নামাজ ও রোজা রাখা নিষিদ্ধ (হারাম)।

কাজা: নিফাসের কারণে ছুটে যাওয়া রোজার কাজা পরে আদায় করতে হবে। কিন্তু নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ২১)।

কুরআন তিলাওয়াত: নিফাস অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা বা তিলাওয়াত করা জায়েজ নয় (হানাফি মতে)। তবে দোয়া, যিকির বা ইস্তিগফার পড়া যাবে।

উপসংহার:

নিফাস হলো আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নারীদের জন্য দেওয়া একটি বিশেষ অবকাশ। এই সময়ে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া এবং ইবাদত থেকে অব্যাহতি পাওয়া শরীয়তের রহমত। সঠিক মেয়াদ জানা এবং বিধান মেনে চলা প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য জরুরি। কোনো জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদী রক্তস্রাবের ক্ষেত্রে একজন বিশ্বস্ত আলেম বা ফিকহবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

১. সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২২

২. সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩১১

৩. সুনান তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৯

৪. সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৩২১

৫. রদ্দুল মুহতার (হানাফি ফিকহের গ্রন্থ)

৬. সুনান ইবনেমাজহা, হাদিস নং: ৩০০


#নিফাস #ইসলামীবিধান #কোরআনওহাদিস #মুসলিমনারী #ফিকহ #ইসলামএকাডেমি #Nifas #IslamicRules #HadithReference #MuslimWomen #Fiqh #HalalLife #IslamQA #BanglaIslamicBlog #Shariah #PrayerRules #FastingRules #ইসলামিকজ্ঞান #হাদিস

Post a Comment

0 Comments