Ticker

10/recent/ticker-posts/

জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ: একটি বিস্তারিত আলোচনা

জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ: একটি বিস্তারিত আলোচনা

ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন,"জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।" 


(সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২২৪)। 

হাদীস: আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফারয। অপাত্রে জ্ঞান দানকারী শুকরের গলায় মণিমুক্তা ও সোনার হার পরানো ব্যাক্তির সমতুল্য।

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ شِنْظِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَوَاضِعُ الْعِلْمِ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ كَمُقَلِّدِ الْخَنَازِيرِ الْجَوْهَرَ وَاللُّؤْلُؤَ وَالذَّهَبَ ‏"‏ ‏.


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ:


তাহক্বীক্ব আলবানী: وَوَاضِعُ الْعِلْمِ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ كَمُقَلِّدِ الْخَنَازِيرِ الْجَوْهَرَ وَاللُّؤْلُؤَ وَالذَّهَبَ কথাটি ছাড়া হাদীসটি সহীহ, কেননা উক্ত কথাগুলো খুবই দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ২১৮, তালীকুল রগীব ১/৫৪ যঈফাহ ৪১৬; সহীহ- মুশকিলাতুল ফিকার ৮৬, ফিকহুস, সীরাহ ৭।

উক্ত হাদিসের রাবী হাফয বিন সুলায়মান সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার হাদিস দুর্বল। ইমাম বুখারী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উক্ত হাদিসের মাতান প্রসিদ্ধ কিন্তু সানাদ দুর্বল। এ হাদিসটি একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল।


হাদীস: হযরত আনাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'প্রতিটি মুসলিম পুরুষের উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজ।'


অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে– প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর দ্বীনী ইলম শিক্ষা গ্রহণ করা ফরজ । ইবনে মাযাহ, হাদীস নং- ২২৪


হাদীস: মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান: 'আল্লাহ তায়ালা যার জন্য বিশেষ কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দ্বীনী জ্ঞান অর্জন ও বুঝার তাওফিক দান করেন।' সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৩১২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৩৭


হাদীস: আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যখন মানুষ মৃত্যু বরণ করে, তখন তার সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি আমল এমন যার সাওয়াব বন্ধ হয় না।'


{১} ছাদক্বায়ে জারিয়া অর্থাৎ- প্রবাহমান ছাদক্বাহ।

{২} ইলম : যার দ্বারা জনগণ উপকৃত হয়।

{৩} নেক সন্তান : যে তার জন্য দুআ করে। সহীহ মুসলিম, ১৬৩১


হাদীস: তাবেয়ী কাছির ইবনু ক্বায়েছ রহমাতুল্লাহি আলাইহ বলেন: আমি দামেশকের মসজিদে বিশিষ্ট সাহাবী আবুদ্দারদাহ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বল্লেন: হে আবুদ্দারদাহ! আমি সুদূর মদিনাতুর রাসূল থেকে আপনার নিকট শুধু একটি হাদীস শুনার জন্য এসেছি।


আপনি নাকি উহা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করে থাকেন। তখন আবুদ্দারদাহ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বল্লেন: হ্যা, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি: তিনি বলেন; যে ব্যক্তি ইলম আন্বেষণ করার লক্ষ্যে কোন পথ অবলন্বন করে, আল্লাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাকে জন্নাতের পথ সমূহের মধ্য থেকে একটি পথে পৌছিয়ে দেন এবং ফেরেস্তাগণ ইলম অন্বেষণকারীদের সন্তুষ্টির জন্য তাদের নিজেদের পাখা বিছিয়ে দেন। এতদ্ব্যতীত যারা আলেম, তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছেন , তারা সকলেই আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা ও দোওয়া করতে থাকেন। এমনকি পানির মধ্যে অবস্থিত মাছসমূহ তাদের জন্য দোওয়া করে থাকেন।


আলেমের ফজিলাত সাধারণ আবেদের (ইবাদতকারী) উপর এমন, যেমন পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা অন্যান্য তারকারাজির উপর। আর আলিমগণ হচ্ছেন নাবীদের ওয়ারিশ। নাবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম ( টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ) রেখে যান না। তারা মিরাছ হিসেবে রেখে যান শুধু ইলম। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করলো সে সৌভাগ্যের পূর্ণ অংশ গ্রহণ করলো। আহমদ, হাদীস নং ২১২০৭, তিরমিজি, ২৬৮২, ইবনু মাজাহ, ২২৩



হাদীস: 'রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দু‘জন ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচিত হলো। তাদের একজন আবেদ (সাধারণ ইবাদতকারী) আর অপরজন আলেম, (কার ফজিলাত বেশি?) । রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আবেদের উপর আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন আমার শ্রেষ্ঠত্ব তোমাদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। অত:পর রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ তায়ালা ও তার ফেরেশতাগণ এবং আসমান –যমিনের অধিবাসীরা এমনকি গর্তের পিপীলিকা ও পানির মাছ পর্যন্ত যে ব্যক্তি মানুষকে ভাল কথা বলে তথা ইলম শিক্ষা দিয়ে থাকেন, তার জন্য দুআ করে।' তিরমিজি শরিফ



হাদীস: হযরত আনাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের লক্ষ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হলো, সে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় রয়ে গেল।’ তিরমিজি, ২৬৪৭ এবং সুনানে দারেমি



বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানব জাতিকে তাদের পার্থিব জীবনে সঠিক পথনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে যুগে যুগে অসংখ্য নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। প্রেরিত পুরুষ নাবী-রাসূলদের নিকট আল্লাহ তাআ'লা হেদায়েতের যে বাণী পাঠিয়েছেন তাকে বলা হয় ওহী। যুগে যুগে প্রেরিত নাবী-রাসূলদের মধ্য থেকে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাবী এবং রাসূল হলেন বিশ্বনাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর উপর অবতারিত কিতাব কুরআনূল কারীম গোটা মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।

আর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যবান নি:সৃত বাণীকে বলা হয় সুন্নাহ বা হাদীস। ওহী বলতে কুরআন ও সুন্নাহ দু'টোকেই বুঝানো হয়ে থাকে। কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জাতির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ, মুক্তি ও সফলতা। তাই কুরআন-সূন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, একমাত্র ওহীভিত্তিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমেই ইসলামী শরীয়ার হালাল-হারাম, করনীয় ও বর্জনীয় বিষয় জানা সম্ভব হতে পারে।

কোন পথে চললে আমাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ ও সফলতা, আর কোন পথে রয়েছে ব্যর্থতা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত রয়েছে শাস্তি ও লাঞ্চনা, তা সুস্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে। অতএব দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও মুক্তি পেতে হলে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণের বিকল্প কোন পথ নেই। আর কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ কুরতে হলে উহার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাই কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দ্বীনী ইলম শিক্ষার গুরুত্ব ও ফজিলাত সম্পর্কে আলোকপাত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।


পরিশেষে বিনীত আহবান, আসুন! আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে দ্বীনী জ্ঞান নিজে অর্জন করি এবং আমাদের সন্তানদের দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতের প্রয়োজনীয় উপকারী প্রত্যেক বিষয়ের যথাযথ জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করুন। বিশ্ব মানবতার সামগ্রিক কল্যানে আমাদের জ্ঞানকে কাজে লাগানোর কিসমত নসিব করুন।


এই হাদিস গুলতে ইসলামে শিক্ষার সার্বজনীনতা ও বাধ্যবাধকতাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। জ্ঞান অর্জন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

#ইসলামিক_একাডেমি_এনপি #হে_মুমিনগণ! #ইবনে_মাজাহ  #হাদীস_বিশ্ব_নবীর_বাণী  #সুনানে_ইবনে_মাজাহ #রিয়াদুস_সালেহীন #মুহাম্মদের_বাণী

Post a Comment

0 Comments