Ticker

10/recent/ticker-posts/

ওযু করার পর কোনো স্থান শুকনো থাকলে করণীয় কী? (মাসআলা ও সমাধান)

পবিত্রতা অর্জনের মূল মাধ্যম হলো ওযু। নামাজের জন্য ওযু অপরিহার্য শর্ত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ওযুর চারটি ফরজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক সময় অসতর্কতার কারণে ওযু করার সময় কোনো কোনো অঙ্গে পানি পৌঁছে না বা শুকনো থেকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামি শরীয়তের বিধান কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

পবিত্রতা অর্জনের মূল মাধ্যম হলো ওযু। নামাজের জন্য ওযু অপরিহার্য শর্ত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ওযুর চারটি ফরজ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু অনেক সময় অসতর্কতার কারণে ওযু করার সময় কোনো কোনো অঙ্গে পানি পৌঁছে না বা শুকনো থেকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামি শরীয়তের বিধান কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

👉মূল মাসআলা: ওযু কি শুদ্ধ হবে?

ওযুর সময় শরীরের যে অঙ্গগুলো ধোয়া ফরজ (যেমন: মুখমন্ডল, দুই হাত কনুইসহ, মাথা মাসেহ ও দুই পা টাকনুসহ), তার কোনো সামান্য অংশও—এমনকি একটি চুলের গোড়া বা সুঁইয়ের আগা পরিমাণ জায়গাও—যদি শুকনো থাকে, তবে ওযু শুদ্ধ হবে না।


 👉করণীয় কী? (পরিস্থিতি অনুযায়ী সমাধান)

শরীয়তের দৃষ্টিতে এই সমস্যার সমাধান অত্যন্ত সহজ। পুরো ওযু পুনরায় করার প্রয়োজন হয় না, তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নিতে হয়:

১. ওযু অবস্থায় নজরে পড়লে:
যদি ওযু করার সময় বা ওযু শেষ করার পরপরই (অঙ্গগুলো ভেজা থাকা অবস্থায়) নজরে পড়ে যে কোনো জায়গা শুকনো রয়ে গেছে, তবে সাথে সাথে শুধু ওই শুকনো জায়গাটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই ওযু পূর্ণ হয়ে যাবে।

২. অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর মনে পড়লে:
যদি ওযু শেষ করার অনেক পরে বা অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর খেয়াল হয় যে কোনো জায়গা শুকনো রয়ে গেছে, তবুও পুরো ওযু পুনরায় করার প্রয়োজন নেই। শুধু ওই শুকনো জায়গাটি পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই ওযু হয়ে যাবে।

৩. নামাজ পড়ার পর নজরে পড়লে:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলো এটি। যদি কেউ শুকনো জায়গা না ধুয়েই নামাজ পড়ে ফেলে এবং পরে বুঝতে পারে যে তার ওযুর কোনো অঙ্গ শুকনো ছিল, তবে সেই নামাজ শুদ্ধ হবে না।

 👉করণীয়: ওই শুকনো জায়গাটি ধুয়ে ওযু পূর্ণ করতে হবে এবং সেই ওয়াক্তের নামাজ পুনরায় আদায় (কাজা) করতে হবে।


হাদিসের প্রমাণ (দলিলাদি)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।

 👉হাদিস ১: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ওযু করল কিন্তু তার পায়ের নখ পরিমাণ জায়গা শুকনো রয়ে গেল। নবীজি (সা.) তা দেখে তাকে বললেন, “ফিরে যাও এবং সুন্দরভাবে ওযু করো।” (সহিহ মুসলিম: ২৪৩)


 👉হাদিস ২: অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবীজি (সা.) ওই ব্যক্তিকে সেই নামাজ পুনরায় পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, ওযু পূর্ণ না হলে নামাজ কবুল হয় না।


 👉হাদিস ৩: রাসূল (সা.) বলেছেন, “(ওযুতে যাদের গোড়ালি শুকনো থাকে) সেই গোড়ালিগুলোর জন্য জাহান্নামের আগুনের শাস্তি রয়েছে।” (সহিহ বুখারী ও মুসলিম)

#ইবনে_মাজাহ, অধ্যায়-১,অনুচ্ছেদ-১৩৯

সতর্কতা ও পরামর্শ

শীতকালে বা তাড়াহুড়োর সময় ওযুতে শুকনো থাকার ঘটনা বেশি ঘটে বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি, হাতের কনুই এবং কানের পেছনের অংশে পানি পৌঁছাতে অবহেলা হতে পারে। তাই ওযু করার সময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে অঙ্গগুলো ঘষে মেজে ধোয়া উচিত।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে ওযু ও নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।


Post a Comment

0 Comments