Ticker

10/recent/ticker-posts/

গোসলের সময় শরীরের সামান্য অংশে পানি না পৌঁছলে কী করবেন?

 অনেক সময় গোসল (নাপাকি/জানাবাতের গোসল) করার পর খেয়াল হয়—কানার ভাঁজ, নাভি, আঙুলের ফাঁক, কনুইয়ের ভেতর দিক, গোড়ালি, চুলের গোড়া বা শরীরের কোনো ছোট অংশ শুকনা রয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো: এতে গোসল হবে কি? হলে এখন কী করণীয়?

গোসলের সময় শরীরের সামান্য অংশে পানি না পৌঁছলে কী করবেন?


এ — এমন হলে গোসলের হুকুম কী দাঁড়ায়?

গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীরের যে অংশে পানি পৌঁছানো ফরজ, সেখানে পানি না পৌঁছলে গোসল অসম্পূর্ণ থাকে। অর্থাৎ যতক্ষণ না সেই অংশ ভিজে যায়, ততক্ষণ হাদাসে আকবার (নাপাকি/জানাবাত) ওঠে না এবং নামাজ/তাওয়াফ/কুরআন স্পর্শ ইত্যাদির বিধানও প্রভাবিত হয় (মাযহাবভেদে সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য আছে, তবে মূলনীতি একটাই: “সারা শরীর ভিজতে হবে”)।


ই — ইসলামী মূলনীতি (সংক্ষিপ্ত দলিল-ভিত্তিক কথা)

👉 আল্লাহ তাআলা পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন; জানাবাতের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হওয়া জরুরি। (ইঙ্গিত: সূরা মায়িদা ৫:৬)

👉 রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর গোসলের বর্ণনাগুলোতে শরীরের সর্বত্র পানি পৌঁছানোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেখা যায়।

👉ফিকহের ভাষায়: গোসলের ফরজ হচ্ছে সারা শরীরে পানি পৌঁছানো (এবং হানাফি মাযহাবে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখিত)।

সারকথা: একটি জায়গাও শুকনা থাকলে গোসল সম্পূর্ণ হয়নি—তাই সেটি ঠিক করা জরুরি।


ও — এখন আপনার করণীয় (প্র্যাকটিক্যাল স্টেপস)

১) যদি গোসলের মাঝখানে/শেষ করেই বুঝতে পারেন:

👉 যে অংশে পানি পৌঁছায়নি, শুধু সেই অংশ ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন—এটাই ন্যূনতম করণীয়।

👉 এরপর গোসলের বাকি বিধান (যদি কোনোটা বাদ পড়ে থাকে—যেমন হানাফি মতে কুলি/নাকে পানি) সেটাও পূর্ণ করুন।

২) যদি গোসল শেষ করার অনেক পরে বুঝতে পারেন:

👉 যে শুকনা অংশ ছিল সেটিতে এখন পানি পৌঁছান।

👉 তারপর আপনি যদি ওই অসম্পূর্ণ গোসলের অবস্থায় নামাজ পড়ে থাকেন, তাহলে সেই নামাজগুলো পুনরায় আদায় করতে হবে (কারণ শুদ্ধ গোসল ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হয় না)।

৩) “পুরো গোসল আবার করতে হবে কি?”

👉 অনেক আলেমের মতে শুধু বাদ পড়া অংশ ধুয়ে নিলেই গোসল পূর্ণ হয়ে যায় (কারণ গোসলের উদ্দেশ্য—সারা শরীর ভিজানো—এটা তখন সম্পন্ন হলো)।

👉 তবে কিছু মাযহাবে “অবিচ্ছিন্নতা/ক্রমধারা” (মুওয়ালাত) বেশি গুরুত্ব পায়—সেক্ষেত্রে পুনরায় গোসল করার কথাও বলা হয়। নিরাপদভাবে আমল করতে চাইলে (বিশেষ করে সন্দেহ বেশি হলে) পুরো গোসল পুনরায় করে নেওয়া উত্তম।

৪) ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়ানোর টিপস (খুব কাজের):

👉 আঙুলের ফাঁক, নখের পাশ, কানের ভাঁজ, নাভি, বগল, হাঁটুর পেছন, গোড়ালি—এগুলোতে হাত বুলিয়ে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করুন।

👉 চুল ঘন হলে মাথার ত্বক পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে আঙুল দিয়ে চুল ফাঁক করে নিন।

👉 গোসল শেষে ১০ সেকেন্ড “দ্রুত চেকলিস্ট” করে নিন—ভুল কমে যায়।


ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ওজু ও গোসল করার নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনও কখনও হয়তো আমাদের অজানায় কিছু অংশে পানি পৌঁছায়নি। এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত নিয়ম মেনে চলা উচিত:

গোসলের সময় শরীরের সামান্য অংশে পানি না পৌঁছলে কী করবেন?

পানি না পৌঁছানোর কারণ নির্ধারণ

প্রথমে নিশ্চিত করুন কোন অংশে পানি পৌঁছায়নি। সাধারণত এই সমস্যা হয়:

👉 চুলের মূলে
👉 কানের ভিতরে 
👉 নাকের ভিতরে 
👉 আঙ্গুলের ফাঁকে 
👉 নখের নিচে

পুনরায় পানি দেওয়ার নিয়ম

যদি কোন অংশে পানি না পৌঁছে থাকে, তবে:

👉 সেই অংশটিকে আবার পানি দিয়ে ধোয়া উচিত 
👉 পানি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে 
👉 নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে পানি সঠিকভাবে পৌঁছেছে

পানি না পৌঁছালে করণীয়

যদি পুনরায় চেষ্টা সত্ত্বেও পানি পৌঁছায়নি, তবে: 

👉 সেই অংশটিকে মাসহার দিয়ে মুখোশ করে নিতে হবে 
👉 মাসহার দেওয়ার পর পুনরায় ওজু/গোসল করতে হবে 
👉 যদি সম্ভব না হয়, তবে ইমাম বা জ্ঞানী ব্যক্তির পরামর্শ নিতে হবে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 

👉 ওজু বা গোসল শেষে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে সব অংশ পানি পেয়েছে 
👉 পানি না পৌঁছানোর কারণ জানা উচিত 
👉 প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিতে পারেন

এই নিয়মগুলি ইসলামী ফিকহ অনুসারে সঠিকভাবে অনুসরণ করা উচিত।


ইসলামিক একাডেমি এনপি — নোট
এটা সাধারণ ফিকহি দিকনির্দেশনা। আপনার পরিস্থিতি যদি বিশেষ হয় (যেমন ক্ষত/ব্যান্ডেজ, শীত/অসুস্থতা, পানি ব্যবহারে সমস্যা), তাহলে স্থানীয় আলেম/মুফতির সাথে কথা বলে নির্দিষ্ট সমাধান নিন।

Post a Comment

0 Comments